1. m.a.roufekhc1@gmail.com : alokitokha :
নির্বাচনে দুর্বৃত্তদের ব্রাশফায়ার, অজানা ভয় ও একটি বিদ্যালয়ের কথা - আলোকিত খাগড়াছড়ি

নির্বাচনে দুর্বৃত্তদের ব্রাশফায়ার, অজানা ভয় ও একটি বিদ্যালয়ের কথা

  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে
আলোকিত খাগড়াছড়ি ডেস্ক:
চাকুরির বয়স ২ বছর ৯ মাস। ৩৬ তম বিসিএস এ প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম পোস্টিং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়। এই স্বল্প সময়ে অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা যেমন রয়েছে তেমন রয়েছে অনেক আনন্দের অভিজ্ঞতাও। এরকম এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ হোসেন।
তিনি বলেন, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় নির্বাচনকালীন দুর্বৃত্তদের ব্রাশফায়ারে পোলিং অফিসারসহ ৬-৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর গুমোট পরিবেশ, সবমিলিয়ে অজানা অস্থির পরিবেশে সদাশয় সরকার কর্তৃক অর্পিত নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য ২০১৯ সালের জুলাই মাসে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলার দুর্গম শুকনাছড়ি নামক স্থানে হেলিকপ্টার যোগে পৌছাই।
২০১৯ সালের জুলাই মাসে লক্ষীছড়ি উপজেলার শুকনাছড়ি জুনিয়র হাই স্কুলে দায়িত্ব পালনকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং তার টিম।
উল্লেখ্য, কাছাকাছি কোন মফস্বল শহর থেকে সেখানে যেতে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা ঝিরিপথে হাটতে হবে কিন্ত বর্ষাকালে ওখানে যাওয়া প্রায়ই অসম্ভব  আর মোবাইল নেটওয়ার্ক সে তো আকাশের চাঁদ। বাড়িয়ে বলছি না, এলাকাভিত্তিক শত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে এলাকাবাসী শুধু ভোট দেওয়ার জন্য নয় ম্যাজিস্ট্রেট দেখার জন্যও ভোট কেন্দ্রে আসতে থাকে। বিষয়টি সম্ভবত স্বাভাবিক কারন ২০০০ সালে শ্রদ্ধেয় রোকন-উদ-দৌলা স্যারের (মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য সর্বজন শ্রদ্ধেয় ছিলেন) পর এই প্রথম কোন ম্যাজিস্ট্রেট এই প্রত্যন্ত এলাকায় এসেছেন।
জরাজীর্ণ শুকনাছড়ি জুনিয়র হাই স্কুলের ছবি।
যাইহোক, স্থানীয় একজন প্রবীণ নাগরিক ভোট দেওয়ার পর আমাকে বিশাল বড় অফিসার মনে করে জীর্ণশীর্ণ জুনিয়র স্কুলকে সংস্কার করার দাবী জানান। চাকরিকাল প্রায় ১০ মাস হয়েছে, কি আশ্বাস দেব বুঝতে পারছি না। মুরুব্বিকে আশ্বস্ত করলাম আমি যদি বেচে থাকি তাহলে আপনাদের এই প্রানের দাবী পূরণ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করব। তিন দিন দুই রাত  দায়িত্ব পালন শেষে ডিসি অফিসে এসে ডিসি স্যার ও সংশ্লিষ্ট উপজেলার UNO স্যারকে বিষয়টি অবহিত করি।
পরবর্তীতে ডিসি স্যার, UNO স্যার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য জনাব প্রকাশ স্যারের (২০ তম বিসিএস প্রশাসন ব্যাচ) সার্বিক সহায়তায় জীর্ণশীর্ণ জুনিয়র স্কুলটি এখন ব্যবহার উপযোগী হয়েছে। আশাকরি শুকনাছড়ি একদিন প্রকৃত শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে। স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা ও আতিথেয়তা স্মৃতিপটে রেখে দিলাম।
বিদ্যালয়ের বর্তমান ছবি।
সম্মানিত একজন শিক্ষক স্কুলটি সংস্কারের সাথে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পূর্বক গতকাল নতুন নির্মিত স্কুল ভবনটির ছবি আমাকে পাঠিয়েছেন। মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কিছু কিছু বিষয় যেমন তিক্ততার আবার কিছু কিছু বিষয় রয়েছে যা খুবই আনন্দের। জরাজীর্ণ বিদ্যালয় থেকে একটি পাকা অবকাঠামো হওয়া আমার কাছে খুব আনন্দের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ